অধ্যায় – ৬ ( পরমাণুর গঠন ) // ৮ম শ্রেনি বিজ্ঞান // জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
অধ্যায় – ৬ ( পরমাণুর গঠন )
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
১।পরমাণু কাকে বলে ?
উত্তর: পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যারা পরস্পরের সাথে যুক্ত
হয়ে অণু গঠন করে তাদের পরমাণু বলে।
২। তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ কাকে বলে ?
উত্তর: যে সকল অস্থায়ী আইসোটোপ তেজষ্ক্রিয়
রশ্মি ও কণা বিকিরণ করে তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
৩। পারমাণবিক সংখ্যা কাকে বলে ?
উত্তর: কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
বিদ্যমান প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
৪। যৌগমূলক কাকে বলে ?
উত্তর: দুই বা ততোধিক মৌলের একাধিক পরমাণু
এক সাথে যুক্ত হয়ে যদি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর মতো যৌগ গঠনে অংশ নেয় তবে এ জাতীয় পরমাণুগুচ্ছকে
যৌগমূলক বলে।
৫। সংকেত কাকে বলে ?
উত্তর: কোনো মৌল বা যৌগের অণুর সংক্ষিপ্ত
রূপকে সংকেত বলে।
৬। আইসোটোপ কাকে বলে ?
উত্তর: কোনো মৌলের ভিন্ন ধরনের পরমাণু
যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদের ঐ মৌলের আইসোটপ বলে।
৭। ভর কাকে বলে ?
উত্তর: কোনো বস্তুতে অবস্থিত পদার্থের
মোট পরিমাণকে ভর বলে।
৮। পারমাণবিক সংখ্যা কাকে বলে ?
উত্তর: কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
বিদ্যমান প্রোটন সংখ্যা ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
৯। আয়ন কাকে বলে ?
উত্তর: ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আাধানযুক্ত
পরমাণুকে আয়ন বলে।
১০। ক্যাটায়ন কী ?
উত্তর: কোনো মৌলের পরমাণু যখন ইলেকট্রন
ত্যাক করে ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়, তখন তাকে ক্যাটায়ন বলে।
১১। ট্রিটিয়াম কী ?
উত্তর: ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের একটি
আইসোটোপ যাতে ২টি নিউট্রন থাকায় এর ভরসংখ্যা হয় ৩।
১২। ভরসংখ্যা কাকে বলে ?
উত্তর: কোনো মৌলের পরমাণুতে প্রোটন ও
নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টিই হলো ঐ মৌলের ভরসংখ্যা।
১৩।কৃষিক্ষেত্রে কোন আইসোটোপ ব্যবহৃত
হয় ?
উত্তর: কৃষিক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ
ব্যবহার করা হয়।
১৪। মৌল কাকে বলে ?
উত্তর: যেসব পদার্থের ভাঙ্গলে, বা রাসায়নিক
উপায়ে বিশ্লেষণ করলে ঐ পদার্থ ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাদেরকে মৌল বলে।
১৫। অ্যামোনিয়াম ফসফেটের সংকেত লিখ।
উত্তর: অ্যামোনিয়াম ফসফেটের সংকেত হলো
( NH4 )3PO4 ।
১৬। S-2 এর ইলেকট্রন সংখ্যা
কত ?
উত্তর: S-2 এর অর্থ, সালফার
দুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করেছে। সুতরাং S-2 এর ইলেকট্রন সংখ্যা ১৮ টি ।
১৭। M ও N মৌলের নাম লিখ।
উত্তর: M ও N একটি মৌলের আইসোটোপ। মৌলটি
হলো অক্সিজেন। মৌলটি হলো অক্সিজেন।
১৮। যৌগমূলক কাকে বলে ?
উত্তর: দুই বা ততোধিক মৌলের একাধিক পরমাণু
এক সাথে যুক্ত হয়ে যদি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর মতো যৌগ গঠনে অংশ নেয় তবে এ জাতীয় পরমাণুগুচ্ছকে
যৌগমূলক বলে।
১৯। অক্সিজেন পারমানবিক সংখ্যা কত ?
উত্তর: অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮
২০। নির্দেশক কী ?
উত্তর: যেসব পদার্থ নিজেদের রং পরিবর্তনের
মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু অম্ন না ক্ষার বা কোনোটিই নয় তা নির্দেশক করে সেসব পদার্থই
হলো নির্দেশক।
২১। নিউক্লিয়ন সংখ্যা কী ?
উত্তর: পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন
ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাই হলো নিউক্লিয়ন সংখ্যা।
২২। যোজনী কাকে বলে ?
উত্তর: কোনো মৌলের একটি পরমাণু কয়টি হাইড্রোজেন
পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় তার সংখ্যাকে বলা হয় ঐ মেীলের যোজনী।
২৩। পরমাণু মডেল কী ?
উত্তর: পরমাণুতে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন কিভাবে বিন্যস্ত থাকে
তার উপস্থাপনাকে পরমাণু মডেল বলে।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
১। পেনিসিয়ামে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনে
বংশ রক্ষা হয়- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পেনিসিলিয়াম হলো নিম্নশ্রেণির
উদ্ভিদ। এধরনের উদ্ভিদ সাধারণত স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে।
এসব উদ্ভিদের দেহকোষের কিছু অংশ পরিবর্তিত হয়ে অণুবীজ বা স্পোরবাহী থলি বা অঙ্গ উৎপন্ন
করে। এই অঙ্গের ভেতরে উৎপাদিত স্পোরের মাধ্যমেই এদের বংশবৃদ্ধি পায়। পেনিসিলিয়ামের
কনিডিয়া নামক অংশ সৃষ্টি হয় যাতে স্পোর থাকে এবং এর মাধ্যমেই বংশবৃদ্ধি ঘটে।
২। একই মৌলের ভিন্ন ভরসংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণুর
ব্যবহার লেখ।
উত্তর: একই মৌলের ভিন্ন ভরসংখ্যাবিশিষ্ট
পরমাণুর আইসোটোপ বলা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইসোটোপের ব্যবহার রয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে
বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ে, ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে, ডাক্তারি যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণসহ
বিভিন্ন কাজে আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কৃষিক্ষেত্রে, খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে এবং ভূ-তাত্ত্বিক
বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজেও আসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
৩। 2n2 বলতে কী বোঝায় ?
উত্তর: 2n2 হলো কোনো মৌলের
পরমাণুর কক্ষপথে ইলেকট্রন বিন্যাস্ত থাকার সূত্র। এখানে, n = 1, 2, 3 ….বা কক্ষপথের
ক্রমিক (B) নম্বরকে নির্দেশ করে। এ সূত্র অনুযায়ী ১ম কক্ষপথে ইলেকট্রন থাকার 2, 12
= 2টি, ২য় কক্ষপথের 2, 22 = 8টি, ৩য় কক্ষপথের 2. 32 =
18টি ইত্যাদি।
৪। চিকিৎসাক্ষেত্রে কেন আইসোটোপ ব্যবহার
করা হয়?
উত্তর: বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে ও নিরাময়ে
তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার করা হয়। ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করা যায় আইসোটোপের
তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ ব্যবহার করে। এছাড়াও তেজষ্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহার করে ডাক্তারি যন্ত্রপাতি
জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৫। নিয়ন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস কেন ?
উত্তর: একটি পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে
বা শক্তিস্তরে যে কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে, ঠিক সেই কয়টি ইলেকট্রন যদি ঐ শক্তিস্তরে
থাকে তাহলে সেই কক্ষপথ পূর্ণ থাকে। এরকম পরমাণুগুলো বেশ নিষ্ক্রিয় হয়। নিয়ন পরমাণুতে
দশটি ইলেকট্রন আছে। প্রথম কক্ষপথে সর্বোচ্চ
২টি ও দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৮টি ইলেকট্রন থাকতে পারে। ফলে নিয়ন পরমাণুটির কক্ষপথ
পূর্ণ থাকে। তাই নিয়ন নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
৬। সোডিয়ামের ভরসংখ্যা 23 বলতে কী বুঝ
?
উত্তর: কোনো মৌলের পরমাণুতে প্রোটন নিউট্রনের সমষ্টিই হচ্ছে উক্ত মৌলের ভরসংখ্যা। এ
হিসেবে সোডিয়ামের ভরসংখ্যা ২৩ বলতে বোঝায়, সোডিয়ামের একটি পরমাণুতে ১১টি প্রোটন আর
১২ টি নিউট্রন আছে। তাই সোডিয়ামের ভরসংখ্যা ১১+১২ = ২৩ ।
৭। পরমাণুর নিউক্লিয়াস বলতে কী বুঝায়
?
উত্তর: নিউক্লিয়াস পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে
অবস্থান করে। নিউক্লিয়াসে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন ও আধান নিরপেক্ষ নিউট্রন রয়েছে।
পরমাণু ভরের প্রায় সম্পর্ণ অংশটুকু নিউক্লিয়াসে থাকে। ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে
কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে।
৮। কার্বনের আইসোটোপ তিনটি কেন ? ব্যাখ্যা
কর।
উত্তর: কোনো মৌলের ভিন্ন ধরনের পরমাণু
যাদের প্রোটন বা পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু বর সংখ্যা ভিন্ন তাদের ঐ মৌলের আইসোটোপ
বলে। কার্বনের বেশির ভাগ পরমাণুতে ৬টি প্রোটন ও ৬টি নিউট্রন রয়েছে। আবার কিছু কিছু
কার্বন পরমাণুতে ৭টি বা ৮টি নিউট্রনও থাকে। সেক্ষেত্রে তাদরে ভর সংখ্যা ১৩ বা ১৪ হয়
। পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা আলাদা
হওয়ায় কার্বনের এই তিন ধরনের আইসোটোপ দেখা যায়।
৯। হিলিয়াম নিষ্ক্রিয় কেন ? ব্যাখ্যা
কর।
উত্তর: একটি পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে
যে কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে, ঠিক সেই কয়টি যদি থাকে তাহলে কক্ষপথটি পূর্ণ থাকে। এরকম
পরমাণুগুলো বেশ নিষ্ক্রিয় হয়। হিলিয়াম পরমাণুতে ২টি ইলেকট্রন থাকে। প্রথম কক্ষপথে যেহেতু
সর্বোচ্চ ২টি ইলেকট্রন থাকতে পারে, সেহেতু হিলিয়াম পরমাণু বেশ স্থিতিশীল। তাই হিলিয়াম
পরমাণু নিষ্ক্রিয়।
১০। আইসোটোপ বলতে কী বুঝ ?
উত্তর: আইসোটোপ হলো কোনো মৌলের ভিন্ন
ধরনের পরমাণু যাদের প্রোটন বা পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন। যেমন-
কার্বনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে। এই তিনটি আইসোটোপের প্রত্যেকের প্রোটন সংখ্যা সমান
অর্থাৎ ৬টি কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ৬টি, ৭টি ও ৮টি অর্থাৎ ভিন্ন হওয়অয় ভর সংখ্যা ভিন্ন।
আইসোটোপসমূহ সাধারণত অস্থায়ী।
১১। আয়ন বলতে কী বোঝায় ?
উত্তর: আধনযুক্ত পরমাণুকে বলা হয় আয়ন।
যখন একটি মৌল ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণ করে তখন আয়ন সৃষ্টি হয় । ইলেকট্রন গ্রহণ করলে
ঋণাত্মক আয়ন এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করলে ধনাত্মক আয়ন উৎপন্ন হয়।
১২। আইসোটোপসমূহে ভরের ভিন্নতা রয়েছে-
ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কোনো মৌলের ভিন্ন ধরনের পরমাণু
যাদের প্রোটন বা পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদের ঐ মৌলের আইসোটোপ
বলে। যেমন হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ। সেগুলো হলো- প্রোটিয়াম, ডিউটরিয়াম ও ট্রিটিয়াম।
প্রতিটিতেই একটি করে ইলেকট্রন ও প্রোটন আছে। কিন্তু ডিউটেরিয়ামে একটি ও ট্রিটিয়ামে
দুইটি নিউট্রন থাকার প্রোটিয়ামের ভরসংখ্যা ১ , ডিউটেরিয়ামের ২ এবং ট্রিটিয়ামের ৩। তাই
বলা যায়, আইসোটোপসমূহে ভরের ভিন্নতা রয়েছে।
১৩। অ্যানায়ন বলতে কী বোঝায় ?
উত্তর: ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জনের মাধ্যমে
পরমাণু আয়নে পরিণত হয় । কোনো মৌলের পরমানু যখন স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য ইলেকট্রন গ্রহণ
করে ঋনাত্মক আধানযুক্ত হয় তখন তাকে অ্যানায়ন বলে। যেমন- ফ্লোরিন মৌলের পরমাণুতে ৯টি
ইলেকট্রন থাকে। অর্থাৎ, এর ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৭। ফ্লোরিন পরমাণু ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ
করার পর f আয়নে পরিণত হয়।
১৪। অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮ বলতে
কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো মৌলের একটি পরমাণুতে প্রোটনের
সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮ বলতে বোঝায়।
অক্সিজেনের পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ৮, যেহেতু অক্সিজেন পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ ফলে অক্সিজেন
পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান। তাই এর ইলেকট্রন সংখ্যা হবে ৮।
১৫। আর্গন নিষ্ক্রিয় কেন ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কোনো পরমাণুর সর্বশেষ কক্ষপথে
যে কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে, ঠিক ততটি ইলেকট্রন থাকলে ঐ পরমাণুটি স্থিতিশীল বা নিষ্ক্রিয়
থাকে , আর্গনের পরমানুতে ১৮টি ইলেকট্রন থাকে। এর সর্বশেষ কক্ষপথে ৮টি ইলেকট্রন থাকায়
আর্গনের পরমাণু বেশ স্থিতিশীল। তাই আর্গন পরমাণু নিষ্ক্রিয়।
১৬। পরমাণু আয়নে পরিণত হয় কেন ? বুঝিয়ে
লিখ।
উত্তর: পরমাণুসমূহ আধান নিরপেক্ষ অর্থাৎ
পরমাণুতে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে। কোনো মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ, ত্যাগ
বা শেয়ারের মাধ্যমে নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিণ্যাস অর্জন কলে স্থিতিশীলতা
লাভ করতে চায়। তাই পরমাণুসমূহ আয়নে পরিণত হয়।
১৭। সকল ইলেকট্রন একই কক্ষপথে স্থান দেওয়া
হয় না কেন ?
উত্তর: সকল ইলেকট্রনকে একই কক্ষপথে স্থান
দেওয়া হয় না কারণ প্রতিটি শক্তিস্তরে ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্দিষ্ট। কক্ষপথগুলো
2n2 হলো কোনো মৌলের পরমাণুর কক্ষপথে ইলেকট্রন বিন্যাস্ত থাকার সূত্র। এখানে,
n = 1, 2, 3 ….বা কক্ষপথের ক্রমিক (B) নম্বরকে নির্দেশ করে। এ সূত্র অনুযায়ী ১ম কক্ষপথে
ইলেকট্রন থাকার 2, 12 = 2টি, ২য় কক্ষপথের 2, 22 = 8টি, ৩য় কক্ষপথের
2. 32 = 18টি ইত্যাদি। এভাবে প্রতিটি কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে নির্দিষ্ট সংখ্যার
বেশি ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে না।
১৮। Na+ এর বৈশিষ্ট্য লিখ।
উত্তর: Na+ এর বৈশিষ্ট্য হলো-
১. একটি ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন
২. সোডিয়াম পরমাণু সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের
একটি ইলেকট্রন দান করে Na+ অবস্থা প্রাপ্ত হয়েছে।
৩. Na+ আয়নটি অপর একটি ঋনাত্মক
আয়ন বা অ্যানায়নের সাথে আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করবে।
১৯। প্রোটন সংখ্যা মৌলের বৈশিষ্ট্য বহন
করে- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কোনো মৌলের পরমাঅনুর বৈশিষ্ট্যকে
বোঝানোর জন্য প্রোটন সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। প্রোটন সংখ্যার পার্থক্যেল কারণেই পরমাণুসমূহের
মধ্যে পার্থক্য হয় । আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকায় ঐ মৌলের
ইলেকট্রন সংখ্যা সম্পর্কেও জানা যায়। যেহেতু প্রোটন সংখ্যা দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন মৌলকে
চেনা যায় তাই বলা যায় প্রোটন সংখ্যা মৌলের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
২০। ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের দুইটি পার্থক্য
লিখ।
উত্তর: ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের মধ্যে দুটি
পার্থক্য-
|
অ্যানায়ন
|
ক্যাটায়ন
|
|
১. মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করে
ঋণাত্মক আধানযুক্ত হয়।
|
১.মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন বর্জন করে
ধনাত্মক আধানযুক্ত করে।
|
|
২. এক্ষেত্রে ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি
পায়।
|
এক্ষেত্রে ইলেকট্রন সংখ্যা হ্রাস পায়।
|
২১। পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ হয় কেন ?
উত্তর: পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটনের
সংখ্যা সমান থাকায় পরমাণুসমূহ চার্জ নিরপেক্ষ হয়। সাধারণত পরমাণু ইলেকট্রন প্রোটন ও
নিউট্রনের সমন্বয়ে গঠিত। ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট, প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত এবং
নিউট্রন চার্জ নিরপেক্ষ। যেহেতু পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান এবং এরা
পরস্পর বিপরীত চার্জযুক্ত। সেহেতু বিপরীত চার্জ একে অপরকে প্রশমিত করে। তাই পরমাণু
চার্জ নিরপেক্ষ।
২২। পরমাণু কেন আধানগ্রস্ত হয় ?
উত্তর: পরমাণুতে সমান সংখ্যক প্রোটন ও
ইলেকট্রন থাকায় সাধারণভাবে পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। পরমাণু মূলত নিকটবর্তী নিষ্ক্রিয়
গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করে স্থিতিশীলতা লাভ করার জন্য আধানগ্রস্ত হয়।
২৩। আইসোটোপ সৃষ্টির কারণ কী ? ব্যাখ্যা
কর।
উত্তর: কোনো পরমাণুতে অবস্থিত নিউট্রন
সংখ্যার ভিন্নতায় আইসোটোপ সৃষ্টির কারণ। মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন
থাকে। নিউট্রনের ভিন্নতার কারণে ভরসংখ্যা ভিন্ন হয়। আর কোনো মৌলের প্রোটন সংখ্যা একই
থেকে ভরসংখ্যা ভিন্ন হলেই আইসোটোপ সৃষ্টি হয়।
২৪। কার্বনের আইসোটোপসমূহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কার্বনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে।
কার্বনের একটি আইসোটোপে ৬টি প্রোটন ও ৬টি নিউট্রন থাকায় এর ভরসংখ্যা ১২। কার্বনের দ্বিতীয়
আইসোটোপে ৬টি প্রোটন ও ৭টি নিউট্রন থাকায় এর ভরসংখ্যা ১৩। কার্বনের তৃতীয় আইসোটোপে
৬টি প্রোটন ও ৮টি নিউট্রন থাকায় এর ভরসংখ্যা হয় ১৪টি।
স্ট্যাডি এইড কোচিং
ব্যাংককলোনী, কাশীপুর, নারায়ণগঞ্জ।

No comments